মুসা ও খিজির (আ.)-এর ভ্রমণ এবং তিনটি রহস্যঘেরা ঘটনা মানবকথা মানবকথা প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২৪ অনলাইন ডেস্ক : মুসা ও খিজির (আ.) একবার একসঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ইউসা ইবনে নুন (আ.)। তাদের এ ভ্রমণযাত্রায় খিজির (আ.) এমন তিনটি রহস্যঘেরা ঘটনা ঘটিয়েছিলেন, যা নিয়ে মুসা ও ইউসার খুব আপত্তি ছিল। ভ্রমণ শুরু করার শুরুতে খিজির (আ.) মুসাকে বলেছিলেন, আপনি আমার সফরের সঙ্গী হতে সক্ষম হবেন না। কারণ পথিমধ্যে আমার থেকে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটলে আপনি তা সহ্য করতে পারবেন না; বরং আমাকে প্রশ্ন করে বারবার বিরক্ত করবেন। আপনি আমার সঙ্গে সফরকালে পূর্ণ ধৈর্য ধারণ করতে ব্যর্থ হবেন। কিন্তু মুসা বলেছিলেন, আমি আপনার সফরের সঙ্গী হতে চাই এবং আপনার সফর নিয়ে কোনো ধরনের আপত্তি বা প্রশ্ন করব না। নৌকা ছিদ্রকরণ : খিজির ও মুসা এবং ইউসা—তিনজন মিলে একটি নৌকা দিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন। নৌকার মাঝি খিজিরকে আগে থেকেই চিনত। তাই তাদের তীরে নামিয়ে দিয়ে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক গ্রহণ করল না নৌকাওয়ালা। নৌকা থেকে নেমে খিজির (আ.) একটি কুড়াল হাতে নিলেন এবং তা দিয়ে নৌকার একটি কাঠ খুলে ফেললেন। এই ঘটনা দেখে মুসা (আ.) চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি খিজিরকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি এই কাজটা কেন করলেন? সে তো আমাদের কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই নদী পার করে দিয়েছে। আর আপনি তার নৌকা ছিদ্র করে দিয়ে ক্ষতি করলেন! এমনটা কেন করলেন? খিজির মুসাকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি বলেছিলাম আপনি আমার সফরসঙ্গী হওয়ার সক্ষম হবেন না। মুসা নিজের ভুল স্বীকার করে বললেন, আমি যা ভুলে গেছি; সে ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করবেন না। ভবিষ্যতে আমি আর এমনটা করব না। শিশুহত্যা : মুসা ও খিজির (আ.) সমুদ্রের পাড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পাশেই কিছু ছোট বাচ্চা খেলাধুলা করছিল। খিজির (আ.) একটি বাঁচার মাথায় হাতের আঙুল দিয়ে তার মাথাটা কেটে ফেললেন। এই ঘটনা দেখে নিজেকে কোনোভাবেই সামলে রাখতে পারলেন না মুসা (আ.)। কিছুটা রেগে গিয়ে তিনি খিজিরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এটা কী করলেন? একটি পবিত্র প্রাণকে হত্যা করলেন? এটা তো অমার্জনীয় অপরাধ। খিজির (আ.) মুসাকে আবারও বললেন, আমি বলেছিলাম আপনি আমার সঙ্গী হতে সক্ষম হবেন না। মুসা (আ.) বললেন, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। ঠিক আছে আমি ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিবাদ করব না। যদি এমনটা করি তাহলে আপনি আমাকে ত্যাগ করবেন এবং আমি আর কোনো অনুরোধ জানাব না। প্রাচীর নির্মাণ : মুসা ও খিজির (আ.) সফর করতে করতে একটি জনপদে এসে যাত্রা বিরতি করলেন। জনপদের অধিবাসীদের কাছে খাবার প্রার্থনা করলেন; কিন্তু তারা কোনো খাবার তো দিলই না বরং মেহমানদারি করতেও অস্বীকার করল তারা। জনপদ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে একটি ভঙ্গুর প্রাচীর দেখতে পেয়ে খিজির (আ.) মৃদু চাপে তা পুনঃনির্মাণ করে দিলেন। মুসা (আ.) তার এমন কাণ্ড দেখে আবারও প্রশ্ন করে বসলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, এই জনপদবাসী আমাদের কোনো উপকার করল না; এমনকি কোনো খাবারও দিল না আমাদেরকে। অথচ আপনি বিনা পারিশ্রমিকে তাদের প্রাচীরটি মেরামত করে দিলেন কেন? মুসার কথা শুনে খিজির (আ.) বললেন, এই কথার মাধ্যমে আপনার সঙ্গে আমার ভ্রমণের এখানেই বিচ্ছেদ ঘটল। কারণ আমি বলেছিলাম আপনি আমার সঙ্গে সফর করতে সক্ষম হবেন না। সফরকালীন সময় আপনি পূর্ণ ধৈর্য ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ হাফেজ। বিদায়। বিদায় বেলায় খিজির (আ.) মুসাকে তার তিনটি ঘটনার ব্যাখ্যা বললেন। নৌকা ছিদ্র করার কারণ ছিল, সামনে একজন জালিম বাদশার উপস্থিতি টের পেয়েছিলাম আমি। সে যেকোনো ভালো নৌকা দেখলে তা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। সুতরাং আমি নৌকাটিকে সামান্য ছিদ্র করে দিয়ে জালিম বাদশার ছিনতাই থেকে রক্ষা করেছি। আর ছেলেটিকে হত্যা করেছি কারণ সে ছিল কাফের এবং বড় হয়ে তার মুমিন পিতামাতাকেও কাফের হতে বাধ্য করত। যে প্রাচীরটি আমি পুনঃনির্মাণ করেছি তা ছিল এই শহরের দুই ইয়াতিম শিশুর। প্রাচীরের নিচে ধনভাণ্ডার লুকায়িত ছিল। প্রাচীরটিকে ঠিক করে সে ভাণ্ডার লুকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছি আমি। আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়াতিম শিশু দুটি বড় হয়ে এর মালিকানা বুঝে নেবে। এ হাদিসটি প্রসিদ্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের শেষভাগে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা মুসার ওপর রহম করুন। যদি তিনি আরও কিছু সময় ধৈর্যশীল থাকতেন, তা হলে আমরা আরও কিছু অলৌকিক ঘটনার বিষয় জানতে পারতাম। (বুখারি, হাদিস : ৭৮, ৭৪৭৮; মুসলিম, হাদিস : ২৩৮০) লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক SHARES বিনোদন বিষয়: