তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের অবরোধে মহাখালীতে তুলকালাম মানবকথা মানবকথা প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২৪ রিনা আকতার তুলি, ঢাকা : স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রদের সড়ক ও রেলপথ অবরোধকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবরোধের কারণে মহাখালী ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। অবরোধের কারণে মহাখালী ও আশপাশের সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ওই এলাকার অফিসগামী যাত্রীরা। জানা গেছে, এ কারণে গতকাল অনেকেরই অফিসসহ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়। অবরোধ চলাকালে ছাত্রদের ছোড়া পাথরে শিশুসহ ট্রেনের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। মহাখালী লেভেলক্রসিং গেটে আন্দোলনকারীদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ৭১১ নম্বর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের দরজা ও জানালা মিলিয়ে মোট ৩৮টি গ্লাস ভেঙেছে। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর একটি দল ও পুলিশ সদস্যরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে শিক্ষা উপদেষ্টার দাবি মেনে নেওয়ার খবরে সড়ক ও রেলপথ ছেড়ে যান শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টা ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তিতুমীর কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করা যায় কি না, সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, বিকেল ৪টার দিকে ছাত্ররা সড়ক ছেড়ে দেন। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাখালী ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও রেলপথের যানচলাচল স্বাভাবিক ছিল। এ ছাড়া যেসব যাত্রী আহত হয়েছেন তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ছাত্ররা জানান, ‘আমরা আগেও বলেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হতে চাই না। আমরা চাই তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করা হোক। শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছি। আশা করি আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে।’ তিতুমীর কলেজের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোয়াজ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা খুশি। তবে তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় না করা পর্যন্ত আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। দাবি যখন আমরা তুলেছি এটির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ দমাতে পারবে না।’ রাজধানীতে তীব্র যানজট, ভোগান্তি সরেজমিনে সোমবার গিয়ে দেখা যায়, মহাখালী রেলগেট, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি, তিতুমীর কলেজ গেট, ওয়্যারলেস গেট ও মহাখালী, আমতলী এই ৬ পয়েন্ট অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে মহাখালী ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল এবং ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ট্রেনের যাত্রী থেকে শুরু করে শত শত বাসযাত্রীও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যানবাহন না থাকায় বহু মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধকারীরা শুধু অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রোগী থাকলে সেটি যেতে দিচ্ছে। এই সড়কে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় মালবাহী একটি মিনিট্রাক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আক্কাস জানায়, কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছি, উত্তরা যাব। কিন্তু অবরোধের কারণে ৩ ঘণ্টা জ্যামে বসে আছি। জাহাঙ্গীর গেটে বাসযাত্রী এনা খবরের কাগজকে বলেন, উত্তরা যাব, এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে বসে আছি। কখন পৌঁছাতে পারব বুঝতে পারছি না। মহাখালী উড়ালসড়ক এবং নিচের সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সচল ছিল। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অন্যতম নেতা কাজী মাসুদ খবরের কাগজকে সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, যেকোনো ইস্যুতে যেকোনো উছিলা তুলে বাসের রুট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে যাত্রীরা যে কী অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন সেটি অবরোধকারীরা বুঝতে চান না। এমন ঘটনায় বাস চালাতে না পেরে বাস মালিক ও শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতি হয়। এসব ঘটনায় শ্রমিকরা ক্রমেই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন। রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক অবরোধ তুলে নেওয়ার পরে সেখানে কর্তব্যরত সেনাবাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ ট্রেন চলাচলের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেন। এতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের ট্রেনগুলো ছাড়তে শুরু করে। কমলাপুর স্টেশনের মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজকে (সোমবার) প্রতিটি আন্তনগর ট্রেন ৩-৫ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর ছেড়ে গেছে। লোকাল ও কমিউটার ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে সেই সময়টা একটু বেশি ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরেই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায়। এই ট্রেনটি বেলা ১টা ৪৩ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।’ সোমবার দুপুরে মহাখালীতে সড়ক অবরোধের সময় একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভাঙচুর করে। এতে নারী-শিশুসহ অনেক যাত্রী আহত হন। এ ঘটনার পরেও চালক ট্রেনটি কমলাপুরে নিয়ে আসেন। সেই ট্রেনটি বিকেল ৫টার দিকে আবার নোয়াখালী অভিমুখে যাত্রা করে। এরপর একে একে বনলতা এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস, সিল্ক সিটি ও কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো ছেড়ে যায়। শিডিউল বিপর্যয়ে ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে অনেক যাত্রী আটকে পড়েন। গতকাল এই দুই স্টেশনে যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে অনেক যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষায় কমলাপুরে বসে ছিলেন দিনভর। আবার অনেকে স্টেশনের পাশেই বাস কাউন্টারে যোগাযোগ করেছেন। কেউ কেউ বাড়ি ফিরে গেছেন।’ কমলাপুরে শিডিউল বিপর্যয় হলেও গতকাল কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়নি বলে জানান আনোয়ার হোসেন। রেলওয়ে কমান্ড্যান্ট মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মহাখালীতে রেলে হামলার ঘটনায় কর্তৃপক্ষ এখনই কোনো মামলা করবে না। SHARES বিনোদন বিষয়: