কুড়িগ্রামে সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিস্টদের সংঘটিত করার অপচেষ্টা

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৫

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামে সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিস্টদের সংঘটিত করতে কয়েকজন সাংবাদিক মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় একাত্তর টিভি এবং জনকণ্ঠের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাজু মোস্তাফিজ তার সাংবাদিকতার আড়ালে আওয়ামী চরিত্রে দালাল সাংবাদিকসহ সরকারি আওয়ামী শক্তিকে সংগঠিত করছে। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও আওয়ামীলীগ মদদপুষ্ট সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তিদের অপতৎপরতায় যেকোন মুহুর্তে কুড়িগ্রামকে অশান্ত করার আশঙ্কা করছে গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

জানানো হয়েছে- আওয়ামীলীগের গত ১৭ বছরের সকল অবৈধ কাজকে বৈধতা দিয়েছেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি একাত্তর টিভি ও দৈনিক জনকন্ঠেনর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাজু মোস্তাফিজ ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আব্দুল খালেক ফারুক। ৫ আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলায় নিহত হয় বৈষম্যবিরোধী নেতা আসিকুর রহমান আসিক। আলোচিত সেই হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ফারুক। মামলার পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেলে প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজু মোস্তাফিজকে দিয়ে গোপনে ফ্যাসিস্টদের সংঘটিত ও কুড়িগ্রামকে অশান্ত করতে নানা রকম ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে ফ্যাসিস্টদের মদদপুষ্ট বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অপসারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলন গড়ে তুললেও তার কোন সংবাদ প্রকাশ করেননি বলেও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। এতে সাংবাদিকদের পক্ষপাতিত্বমূলক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা। প্রেসক্লাবের ভিতরেই ছাত্রজনতা এর প্রতিবাদ করলে জনসম্মুখে আওয়ামীলীগের পক্ষ নিয়ে প্রেসক্লাব সভাপতি বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নেতারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে- একাত্তর টিভি ও দৈনিক জনকন্ঠের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাজু মোস্তাফিজের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ফলে তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জানান, ‘একাত্তর টিভি ও জনকন্ঠের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাজু মোস্তাফিজসহ আরো একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ ও সংঘটিত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাদিকুর রহমান সাদিক বলেন, ‘চব্বিশের গণভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী ফ্যাসিস্টদের অপতৎপরতা বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এতো দিনেও কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি তা আমাদের বোধগম্য নয়’।